• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তিন বছরের যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে গাজার জনজীবন মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত, তদন্ত ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকার গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর কাতারে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফখরুল ইসলাম দুদুকে পৌরসভা মন্ত্রীর সম্মাননা ছুটির সকালে বাড়ল সোনার দাম নবাবগঞ্জে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৮ হাজার টাকার বীমা দাবির চেক হস্তান্তর নারীরা খেলাধুলায় জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার চাইলেন রাশেদ খাঁন সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে নতুন কমিটি: রিজভী উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে বালিভর্তি অবৈধ ডাম্পার জব্দ

তিন বছরের যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে গাজার জনজীবন

admin
আপডেটঃ : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

টানা তিন বছরের নিরবচ্ছিন্ন ইসরায়েলি হামলায় গাজার পরিচিত দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। মানুষের কোলাহলমুখর সড়ক, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং দৈনন্দিন আড্ডার জায়গাগুলো এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুর সারি এখন উপকূলীয় জনপ্রিয় এলাকাগুলোসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্ত দখল করে আছে। ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে উপত্যকাটির ৮০ শতাংশেরও বেশি ভবন হয় ধ্বংস হয়েছে, নয়তো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় যে সড়কগুলো ছিল মানুষের চলাচল, কেনাকাটা ও আড্ডার জায়গা, সেখানে এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের সারি। সেখানে মানুষ কাজ করতেন, পড়াশোনা করতেন, কেনাকাটা করতেন এবং পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। ধ্বংসযজ্ঞে শুধু ভবন নয়, বদলে গেছে আশপাশের সড়ক ও পুরো মহল্লার চেহারাও।

সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের দিক থেকে গাজা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৪টি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করেছে। এর মধ্যে ১২৮টি ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন ভবন, ১৪টি ধর্মীয় স্থাপনা, ৯টি স্মৃতিস্তম্ভ, ৮টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ২টি জাদুঘর এবং তিনটি সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের ভান্ডার রয়েছে।

গাজার স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শন গ্রেট ওমারি মসজিদ। বাইজেন্টাইন, ক্রুসেডার, মামলুক ও উসমানীয় আমলের স্থাপত্যরীতিতে গড়া এই প্রাচীন স্থাপনাটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়, যার ফলে এর বড় অংশ ও ঐতিহাসিক মিনার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একই সাথে ত্রয়োদশ শতকের মামলুক আমলের প্রাসাদ কাসর আল-বাশা—যা ২০১০ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছিল—তাও যুদ্ধের আঘাতে বিপর্যস্ত। এছাড়া আল-কিসারিয়া বাজার, প্রাচীন সামারিটান গোসলখানা এবং সেন্ট পোরফিরিয়াস গির্জা কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও চরম ক্ষয়ক্ষতির কবলে পড়েছে।

উপকূলীয় এলাকার পরিচিত স্থাপনাগুলোও রেহাই পায়নি। ২০১৭ সালে উদ্বোধন করা আল-হাসাইনা মসজিদ (আল-মিনা মসজিদ) ২০২৩ সালের নভেম্বরে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়া গাজার প্রধান উপকূলীয় সড়ক আল-রশিদ স্ট্রিট, যা একসময় ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ দিয়ে জমজমাট থাকত, সেটি এখন প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। এই সড়কের বিভিন্ন অংশ এখন বাস্তুচ্যুত মানুষদের তাঁবুতে ছেয়ে গেছে। এছাড়া রেমাল এলাকায় অবস্থিত রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটিও যুদ্ধের কবলে পড়ে ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। ভূমধ্যসাগরের উপকূলের সেই এলাকায় এখন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

শিক্ষা ও ক্রীড়াক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব গাজার মূল ক্যাম্পাসটির অধিকাংশ অবকাঠামো ধূলিসাৎ হয়েছে। এর অবশিষ্ট অংশে এখন বাস্তুচ্যুতরা আশ্রয় নিয়েছেন। একই ভাগ্যবরণ করেছে ১৯৫২ সালে চালু হওয়া ফিলিস্তিনের প্রাচীনতম ইয়ারমুক স্টেডিয়াম। একসময়ের এই প্রাণবন্ত ক্রীড়াঙ্গন এখন খেলাধুলার পরিবর্তে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পৌর অবকাঠামোর ধ্বংসযজ্ঞের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে শেখ রাদওয়ান পুকুরের ক্ষেত্রে। ২০০০ সালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য তৈরি পাঁচ লাখ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার এই পুকুরটি বর্তমানে অকার্যকর। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনের পানি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পুকুরটিতে পয়োনিষ্কাশনের পানি মিশে পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।

আল-জাজিরার সাম্প্রতিক আলোকচিত্র প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয়, যুদ্ধের আগের পরিচ্ছন্ন শহর আর আজকের ধ্বংসস্তূপের মধ্যকার পার্থক্য কত বিশাল। গাজার বন্দর, যেখানে একসময় স্থানীয় জেলেরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন, তা আজ ক্ষতিগ্রস্ত নৌকায় এবং মানুষের তাঁবুতে পূর্ণ। সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের বোমাবর্ষণে গাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও নাগরিক জীবনের চিহ্ন প্রায় মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ