বিশ্ব ডেস্ক রিপোর্টঃ ইরান যদি দ্রুত একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে দেশটির জন্য সামনে ‘খুব খারাপ সময়’ অপেক্ষা করছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুমকি দেন।
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একটি সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কেবল আমেরিকার নয়, বরং ইরানের নিজেদেরও বড় ধরনের স্বার্থ রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন যে, নতুন করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পেয়েছে তেহরান। তবে আরাগচি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং তাদের ‘সাংঘর্ষিক বার্তার’ কারণে মার্কিনদের ওপর এখনো ইরানের গভীর ‘অবিশ্বাস’ ও সংশয় রয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এর আগে দুই দেশের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যখনই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়ে সেই আলোচনা প্রক্রিয়া নস্যাৎ করে দিয়েছিল। ফলে অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা তেহরানকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান নিয়ে খুব শীঘ্রই বড় এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ওয়াশিংটনের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টারা ইতিমধ্যে নতুন করে অভিযানের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছেন, যাতে ট্রাম্প চাইলে আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে ইরানে আরও ব্যাপক আকারে বোমা হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। তবে উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার চূড়ান্ত পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো কোনো শেষ সিদ্ধান্ত নেননি।
মূলত স্বার্থসংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো পর্দার আড়াল থেকে ইরানকে বুঝিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি রুটের প্রাণকেন্দ্র ‘হরমুজ প্রণালি’ আবার খুলে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি কূটনৈতিক চাপে ইরান এই সমুদ্রপথ খুলে দেয়, তবে ট্রাম্প নিজেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারবেন এবং আমেরিকার সংশয়ে থাকা ভোটারদের বোঝাতে সক্ষম হবেন যে, ইরানে চালানো এই ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান মার্কিন স্বার্থেই সফল ছিল।
![]()