• রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়

admin
আপডেটঃ : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

বিশ্ব ডেস্ক রিপোর্টঃ দীর্ঘ রাজনৈতিক আলোচনা, জোট সমীকরণ ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার নাটকীয় প্রচেষ্টার পর সরকার গঠনের অনুমোদন পান বিজয়। গত মাসে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় পায়। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে তাকে টানা পাঁচ দিন আলোচনা চালাতে হয়। এ সময় তিনি চারবার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

শনিবার রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানান বিজয়। তিনি কংগ্রেসের পাঁচজন, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) দুইজন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) দুইজন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর দুইজন এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) দুইজন বিধায়কের সমর্থনের কথা জানান।

দুইটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় বিজয়কে একটি আসন ছাড়তে হবে। এরপরও তার জোটের মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়ায় ১২০ জনে।

প্রায় ৬০ বছরের মধ্যে তামিলনাড়ুতে এই প্রথম ডিএমকে বা এআইএডিএমকে ছাড়া অন্য কোনো দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলো।

ডিএমকের এক সময়ের জোটসঙ্গী কংগ্রেস পাঁচটি আসনে জয় পেয়েছে। দলটি শুরুতেই বিজয়কে সমর্থন দেয়। বুধবার তারা বিজয়কে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানায়। তবে তখন রাজ্যপাল তাকে আরও সমর্থন জোগাড় করতে বলেন।

এরপর অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার আবারও রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। কিন্তু তখনও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়ে তিনি রাজ্যপালকে সন্তুষ্ট করতে পারেননি।

বৈঠকের পর লোক ভবন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার গঠনের জন্য তামিলনাড়ু বিধানসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মাননীয় রাজ্যপাল ব্যাখ্যা করেছেন।’

শুক্রবার বড় ধরনের অগ্রগতি আসে, যখন সিপিআই ও সিপিআই(এম) — দুই বাম দলই বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেয়। দল দুটি নির্বাচনে দুটি করে আসন পেয়েছিল।

তবে তখনও বিজয়ের জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১১৬, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ থেকে দুই কম ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় আবারও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেও লিখিতভাবে ১১৮ বিধায়কের সমর্থন দেখাতে না পারায় তিনি তখনও অনুমোদন পাননি।

অবশেষে শনিবার ডিএমকে জোটের আরেক শরিক থোল থিরুমাভালাভানের ভিসিকে বিজয়কে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। এতে তার সমর্থন ১১৮-তে পৌঁছে যায়। পরে আইইউএমএলও দুই আসনের সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিলে জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১২০ জনে।

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় বিজয় দ্রুত লোক ভবনে গিয়ে বিভিন্ন দলের নিঃশর্ত সমর্থনের চিঠি রাজ্যপালের কাছে জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তামিলনাড়ু কংগ্রেস সভাপতি কে সেলভাপেরুনথাগাই এবং সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক পি শানমুগাম।

প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকের পর রাজ্যপাল বিজয়কে সরকার গঠনের অনুমতি দেন এবং তাকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৩ মে’র মধ্যে বিধানসভায় আস্থা ভোট নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। সূত্র: এনডিটিভি

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ