• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পানামা ইন্টারনেট ও রেলসেবা বন্ধ, রাস্তায় ২৫ হাজার পুলিশ—আজ দিল্লিতে কী হতে যাচ্ছে? তিন বস্তায় ৪ কোটি টাকা, গুলি করে দুই বস্তা ছিনতাই তিন বছরের যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে রূপ নিয়েছে গাজার জনজীবন মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত, তদন্ত ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকার গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর কাতারে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফখরুল ইসলাম দুদুকে পৌরসভা মন্ত্রীর সম্মাননা ছুটির সকালে বাড়ল সোনার দাম নবাবগঞ্জে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৮ হাজার টাকার বীমা দাবির চেক হস্তান্তর নারীরা খেলাধুলায় জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ইন্টারনেট ও রেলসেবা বন্ধ, রাস্তায় ২৫ হাজার পুলিশ—আজ দিল্লিতে কী হতে যাচ্ছে?

admin
আপডেটঃ : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে ঘিরে গোটা রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। শহরজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির সীমান্ত, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। একই সঙ্গে ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত থেকেই নিরাপত্তার ব্যাপক প্রস্তুতির ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শনিবার দিল্লিতে যে পরিস্থিতি আর পাঁচটা সাধারণ ছুটির দিনের মতো হবে না, তার ইঙ্গিত মিলছিল আগেই। যন্তর মন্তরের চারপাশে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। বাতিল করা হয়েছে শতাধিক ট্রেন। এ ছাড়া মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা।

যদিও ককরোচদের যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মেনে অনুমতি না নেওয়া, অতীতের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা এবং বড় জমায়েতের কারণে নিরাপত্তা ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কার কথা জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, অনুমতি না মিললেও সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা সহজে থামার সম্ভাবনা নেই।

বিক্ষোভের আগে রাজ্যগুলিকে সতর্ক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশপ্রধানদের চিঠি লিখে সতর্ক করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

৯ অক্টোবরের ওই চিঠিতে গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও সিজেপির সদস্য ও সমর্থকেরা দিল্লিতে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন। সেই কারণে রাজ্যগুলিকে গোয়েন্দা সংস্থা, সীমান্তে নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদানের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে প্রবেশকারী গাড়িগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শনিবার দিল্লির সব মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভে লোক জড়ো করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। বিভিন্ন অনলাইন পোস্ট ও বার্তা খতিয়ে দেখতে ২০০-র বেশি কনটেন্ট নির্মাতাকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

১.৫ কিলোমিটারের স্পর্শকাতর এলাকায় ৬,৫০০ নিরাপত্তাকর্মী

যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের দপ্তর এবং দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরকে ঘিরে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকায় ৬,৫০০-র বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকার কথা।

যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলিতে তৈরি করা হয়েছে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড। নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে নয়াদিল্লি জেলাকে ২০টিরও বেশি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশকে সহায়তা করতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ১২০টিরও বেশি কোম্পানি মোতায়েন করার সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে নিরাপত্তাকর্মীদের রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে একাধিক জায়গায় মহড়াও চালানো হয়েছে।

স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে লাউডস্পিকার বসানো হয়েছে। সেখান থেকে ঘোষণা করে জানানো হচ্ছে, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া জমায়েত, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি এবং হিংসাত্মক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীদের জন্য তৈরি ১২টি আটককেন্দ্র

বিক্ষোভ চলাকালে যাদের আটক করা হতে পারে, তাদের রাখার জন্য ১২টি আটককেন্দ্র প্রস্তুত করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পুলিশ সদস্যদের সংযত থাকতে এবং পেশাদার মনোভাব নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। উসকানি দেওয়া হলেও যেন পুলিশ সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখান, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সিজেপির আগের বিক্ষোভগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির হোটেল, লজ এবং গেস্ট হাউসগুলোতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আবাসন সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এয়ারবিএনবি-র মাধ্যমে ঘর ভাড়া দেওয়া সংস্থা এবং সম্পত্তির মালিকদেরও।

৩০০-র বেশি সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা

নয়াদিল্লি জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাযুক্ত ৩০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এ ছাড়া, পরিস্থিতির গতিবিধি এবং পুলিশের পদক্ষেপ সরাসরি নথিবদ্ধ করতে প্রায় ১০০ জন আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফারকে কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি—এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দিল্লি পুলিশ সচেতনতামূলক প্রচারও শুরু করেছে। কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ এবং আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলির (আরডব্লিউএ) মাধ্যমে বাসিন্দাদের বিষয়টি জানানো হচ্ছে।

জনপথ-করতব্য পথ মোড়ের ৪ কিলোমিটারের মধ্যে বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট

জনপথ ও করতব্য পথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই নির্দেশ জারি করেছে।

মোবাইল ইন্টারনেটের সব প্রযুক্তিই এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে। এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন আইডিয়া (ভিআই) এবং এমটিএনএলকে নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ

দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) আগের পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে। প্রথমে ৫৭টি স্টেশনে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ বন্ধ রাখার কথা জানানো হলেও, সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী ৪৫টি স্টেশনে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।

৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের প্রবেশ ও বেরোনো বন্ধ থাকবে।

এই তালিকায় রয়েছে জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, নয়াদিল্লি, মান্ডি হাউস, আইটিও, খান মার্কেট, হাউজ খাস, লাজপত নগর, কাশ্মীরি গেট, সিলামপুর, শাহদরা এবং রিঠালা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন।

তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা স্টেশনগুলোতে লাইনের মধ্যে সংযোগ বা ইন্টারচেঞ্জের সুবিধা চালু থাকবে। একমাত্র নয়াদিল্লি স্টেশনে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।

এই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনগুলোর শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, জনপরিবহণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। আদালত কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তিসংগত ও আনুপাতিক ব্যবস্থা নিতে বলেছে। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ এবং পড়ুয়াদের যাতায়াত যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।

বাতিল ২৫৪টি ট্রেন

নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবাতেও। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ২৫৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এবং ১৭৯টি লোকাল ট্রেন রয়েছে।

এই বাতিলের ফলে দিল্লির সঙ্গে গাজিয়াবাদ, মিরাট, পানিপথ এবং কুরুক্ষেত্রের মতো বিভিন্ন এলাকার রেল যোগাযোগে প্রভাব পড়েছে।

নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন থেকে যাত্রা করার আগে যাত্রীদের নিজেদের ট্রেনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে পুরনো দিল্লি, আনন্দ বিহার এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন চালু রয়েছে।

এ ছাড়া, নমো ভারত রেলের দুটি স্টেশন—সরাই কালে খান এবং নিউ অশোক নগর—৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

৩০টি রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ প্রায় ৩০টি রাস্তা চিহ্নিত করেছে, যেখানে ১০ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে যান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে।

এই তালিকায় রয়েছে যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্যাটেল চক, অশোকা রোড, জনপথ, লোধি রোড এবং ধৌলা কুয়োর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দীনেশ কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী যান চলাচলের পথ পরিবর্তন করা হবে। তবে কোনও রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া বা যান চলাচল পুরোপুরি আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

যাদের একান্ত প্রয়োজন নেই, তাদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের বাইরে বেরোতেই হবে, তাদের হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বেরোতে এবং ট্রাফিক পুলিশের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে রেলস্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (আইএসবিটি) এবং বিমানবন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ মদের দোকান, বাজার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও প্রভাব

নিরাপত্তাজনিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৯ ও ১০ অক্টোবর দিল্লির সমস্ত খুচরা মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কনট প্লেসের নিউ দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনও ১০ অক্টোবর দোকান, অফিস, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এ ছাড়া, ভাগীরথ প্যালেস ও চাঁদনি চক বাজার কর্তৃপক্ষও ওই দিন বাজার বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

সম্ভাব্য যানজট ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আগেভাগে যাত্রার পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছনোর জন্য স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় হাতে রাখতেও বলা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ-সহ প্রতিবেশী এলাকাতেও সতর্কতা

সিজেপির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিল্লি সংলগ্ন মিরাট ও বেরেলি জোনের জেলাগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রাজধানীর দিকে যাওয়া রাস্তাগুলিতে গাড়ি পরীক্ষা এবং নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। লখনউ, আগ্রা, মিরাট, বেরেলি, গাজিয়াবাদ, নয়ডা, প্রয়াগরাজ এবং বারাণসীতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন।

অন্যদিকে, গৌতম বুদ্ধ নগর জেলায় ১০ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভ, উৎসব এবং বিভিন্ন জনসমাবেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে রেল পরিষেবাতেও। ১০ অক্টোবর দিল্লি ও লখনউয়ের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লখনউ মেল এবং নয়াদিল্লি-লখনউ এসি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। এ ছাড়া, ১১ অক্টোবরের লখনউ-নয়াদিল্লি গোমতী এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছে।

স্বাভাবিক জনজীবন বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

নিরাপত্তার এই ব্যাপক প্রস্তুতি থেকে স্পষ্ট, পরিস্থিতির প্রভাব শুধু যন্তর মন্তর বা তার আশপাশের এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। দিল্লির বিভিন্ন অংশের সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী মানুষ এবং বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেশী উত্তরপ্রদেশের একাধিক এলাকাতেও তৈরি হয়েছে সতর্ক পরিস্থিতি।

বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া হলেও সিজেপির সমর্থকেরা জমায়েত করার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা অটুট রেখে বিক্ষোভকে রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকানো যায়, অথচ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি থমকে না যায়। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ