ডেস্ক রিপোর্টঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে দলটির পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে দলের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না এবং কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডাও ছিল না। তবে বৈঠক শেষে জানানো হয়, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়েই তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, খুব শিগগিরই তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে।
চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হওয়ায় সিদ্ধান্ত
২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় দলের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হলো।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারায় (৩) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা আছে ‘যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’
নির্বাচনের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
বিএনপি আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই নির্বাচনেই তিনি প্রথমবারের মতো নিজে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা
বিশ্লেষকরা বলছেন, নানা সংকট, বিতর্ক ও নির্বাসন পেরিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দলটির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন দেখার বিষয়, তিনি কতটা দক্ষতার সঙ্গে দলকে নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
![]()