• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

আজও পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভে, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

admin
আপডেটঃ : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

অনলাইন ডেস্কঃ ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তাই শুধু নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, দ্রুত মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। শ্রমিকদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত এবং তারা শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এদিন মোট কতটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি শিল্প পুলিশ।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে রোববার গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। তবে এদিন কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করা হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্স এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় যানবাহনও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় কারখানা, মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ