• শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়িয়ে জ্বালানি রপ্তানি করছে ইরান

admin
আপডেটঃ : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে ইরানের। গত জুলাই থেকে দেশটি কিছু এলপিজি ও জেট ফুয়েল বাইরে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ইন্টেলিজেন্স ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ওমান উপকূলে অন্য দেশের জাহাজের আড়ালে শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফারের মাধ্যমে ইরান এই রপ্তানি সম্পন্ন করছে।

জাহাজ ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরানের (ইউএএনআই) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ইরানের অন্তত আটটি এলপিজি ট্যাঙ্কার ওমান উপসাগর পার হয়েছে। এতে প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল এলপিজি ছিল। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে দেশটির জেট ফুয়েলবাহী একটি ট্যাঙ্কার মিয়ানমারে পৌঁছেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব ট্যাঙ্কারের অধিকাংশের ওপরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরে শূন্যে নেমে এসেছে। এতে অর্থনীতি ভেঙে পড়ার হাত থেকে বাঁচাতে ইরান ছোট ছোট জাহাজে করে প্রক্রিয়াজাত জ্বালানি রপ্তানির পথ বেছে নিয়েছে।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের নৌ অবরোধকে অত্যন্ত কঠোর দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, গত তিন মাসে তারা ১৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ফেরত পাঠিয়েছে এবং চারটি জাহাজ অচল করে দিয়েছে।

ফ্লাইট বাতিল ও আকাশচুম্বী খরচের মুখে ইরানিরা
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে ইরানের আকাশপথ যোগাযোগ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর পাশাপাশি তাদের সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে দুবাই, আজারবাইজান, জর্জিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, ইরাকসহ একাধিক দেশের সঙ্গে ইরানের সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত হয়ে গেছে।

এর ফলে সাধারণ ইরানি ও প্রবাসী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও তেহরান থেকে মাত্র দুই ঘণ্টায় ১০০ থেকে ২০০ ডলারে দুবাই পৌঁছানো যেত। এখন সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বিকল্প রুটে ইস্তাম্বুল হয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় লাগছে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এবং টিকিটের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ডলারের বেশি। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও ব্যবসার কাজে যাতায়াতকারী মানুষের জীবনযাত্রা থমকে গেছে। আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় দেশটির এয়ারলাইন্সগুলোর আয়ও ধসে পড়েছে।

সংঘাতকে পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞ বললেন পেজেশকিয়ান
আর্মেনিয়ায় অনুষ্ঠিত এক প্রকৃতি সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞ বা ইকোসাইড হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, গাজা ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসনের ফলে প্রকৃতির ওপর যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, তা কোনো নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধের শামিল।

পারমাণবিক অস্ত্র ও স্থলবাহিনী না পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানো কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। তবে ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি নামে পরিচিত সবচেয়ে বড় অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেননি।

হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার পর পারস্য উপসাগরে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেছে। সেখানে সিঙ্গাপুরের একটি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি ডুবে গেছে। অন্যদিকে, ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি-নিয়া দাবি করেছেন, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী এবং সম্প্রতি তারা একাধিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ