• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, ভাইরাল ছবি

admin
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

অনলাইন ডেস্কঃ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সংরক্ষিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অর্ধনির্মিত ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ভাস্কর্যের মাথার অংশে জুতার মালা ঝোলানো অবস্থার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে লোক পাঠিয়ে ভাস্কর্য থেকে জুতার মালাটি অপসারণ করা হয়। তবে কে বা কারা এটি করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা রং করা ভাস্কর্যের মাথার অংশে রশি দিয়ে জুতার মালা ঝোলানো হয়েছে। এতে ডান পাশে দুটি এবং বাম পাশে তিনটি জুতা বা স্যান্ডেল দেখা যায়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এক ব্যক্তি বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাঁকে ফোন করে ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর বিষয়টি জানান। পরে ওই ব্যক্তি আবার ফোন করে নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি সরিয়ে ফেলা হয়।সংবাদ পড়ুন

কামালুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননা। কোনোভাবেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

ঘটনাটি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, ভাস্কর্যস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভালো স্থপতির মাধ্যমে হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যটি সঠিক অবয়বে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান কামালুজ্জামান।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকদের কাছ থেকেই বিষয়টি শুনেছি। এ ছাড়া বিস্তারিত জানি না। এ বিষয়ে কোনো আপডেটও নেই।’

জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তদন্ত করে দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা যায়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’

বাস টার্মিনাল এলাকার চা দোকানি জাবেদ মিয়া বলেন, সকালে দোকান খোলার সময় তিনি হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় জুতার মালা দেখতে পান। পরে এক ব্যক্তি এসে সেটি সরিয়ে নেন।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘হামিদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি হয়তো ওখান থেকে মুছে ফেলার জন্য কেউ পরিকল্পনা নিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা শাখার সভাপতি শারমিন সুলতানা বলেন, বিষয়টি জানার পর লোক পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছবি সংগ্রহের পর তিনি তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে অবমাননার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।’

Loading


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ