অপরাধ ডেস্ক রিপোর্টঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর নন্দীরহাটে তালিকাভুক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী জুয়েল আওয়ামী লীগের সময়ে এমপি মন্ত্রীদের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় মাদকের আধিপত্য বিস্তার করেন। দেশের পট পরিবর্তন হলেও মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল কিছুদিন পুলিশের ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেলেও গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় মাদক ইয়াবার ব্যবসা শুরু করলে পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকায়। যার কারণে মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল ধরা ছোয়ার বাইরে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করার পরও গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাদক ইয়াবা চুরি, ছিনতাই, জবর দখলসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে জুয়েলসহ তার অনুসারীরা বিভিন্নভাবে হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান বলে জানা গেছে।
মাদক মামলার আসামি জুয়েল প্রকাশ একাইত্তার অত্যাচারে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে জুয়েলের নেতৃত্বে বসে মাদক ইয়াবার হাট। মাদক ইয়াবা মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলে গেলেও সে কৌশলে জামিনে বের হয়ে আবার শুরু করে ইয়াবাসহ নানা মাদক ব্যবসা। এই সন্ত্রাসীর ভয়ে এলাকার লোকজন কথা বলার সাহস করে না। সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ী জুয়েলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল ও তার সহযোগিতা গ্রেফতার না হওয়ায় এলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্ঠি হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী জুয়েলকে গ্রেফতার করা না হলে এলাকাবাসী প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা করেছেন। মাদক ব্যবসায়ী জুয়েলকে ২০১৮ সালে ৮ জুলাই বায়োজিদ থানায় পুলিশ ৪ হাজার ৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেন যার বায়োজিদ থানা মামলা নং ১৯/২৬৫।
উক্ত মামলায় দীর্ঘদিন জেলে থাকেন। মাদক ব্যবসায়ী জুয়েল আওয়ামী লীগের সময়ে প্রভাবশলী নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ নানা সন্ত্রাসাী কর্মকান্ডসহ অপরাধ জগতের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক হাত কেটে ফেলেন তার গ্রুপের সদস্যরা। গত ১২ বছর ধরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটছে। হাত কাটাকে পুঁজি করে কখনো কখনো শারীরিক প্রতিবন্ধি সেজে প্রশাসনের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করে থাকে সন্ত্রাসী এই জুয়েল। সন্ত্রাসী জুয়েলের বাড়ি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের নন্দিরহাট এলাকায়। তিনি মৃত জালাল আহমদ ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তার স্বয়সঙ্গী নিয়ে এলাকার অসহায় দরিদ্র লোকের জায়গা জমি দখল করে আসছে বহুদিন ধরে। এতে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করে। বিভিন্ন জায়গায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসাবে কাজ করে জুয়েল। সন্ত্রাসী জুয়েল ও তার দলবল নিয়ে নানা অপকর্মের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ আজ অতিষ্ঠ।
এতে এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে। দ্রুত এই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য দাবী সর্বমহলের। গত ১৩ আগস্ট চিন্তিত মাদক ব্যবসায়ী জুয়েলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ ইব্রাহীম, মোহাম্মদ কাশেম মিয়া, মো. সুজন, মো. রায়হান, হারুনুর রশীদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এলাকাবাসীর পক্ষে গণস্বাক্ষর করে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে মাদক ব্যবসায়ী জুয়েলকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের জন্য নিয়মিত অভিযান চলছে, জুয়েলকে ধরার জন্য পুলিশ চেষ্ঠা করছে, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের জন্য উপরের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।
![]()