খেলা ডেস্ক রিপোর্টঃ চার দশকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষা। পুরুষদের পর এবার নারীদের হাতে এশিয়ার সেরা আসরে বাংলাদেশের পতাকা। ১৯৮০ সালে কুয়েতে সালাউদ্দিন-চুন্নুরা যে মঞ্চে লড়েছিলেন, দীর্ঘ বিরতির পর সেই মহাদেশীয় আসরে নতুন ইতিহাস লিখবেন আফঈদা-ঋতুপর্ণারা। এএফসি নারী এশিয়া কাপে প্রথমবার অংশ নেওয়ার রোমাঞ্চ লাল-সবুজ ফুটবলকন্যাদের।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে মেয়েদের অনুপ্রাণিত করতে গেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল। প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ এশিয়ার পরাশক্তি চীন। সভাপতি মনে করিয়ে দিলেন, ফুটবল শুধু নাম-খ্যাতির খেলা নয়, দিনের পারফরম্যান্সই আসল।
দলের ফিটনেস, কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফরা। ফিজিও, ফিটনেস ট্রেইনার ও পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলাপ করে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘সামর্থ্যরে দিক থেকে আমরা পিছিয়ে নেই। মেয়েরা যদি নিজেদের সেরাটা দেয়, চমক দেখানো সম্ভব।’ খেলোয়াড়দের অনুরোধে তাবিথ আউয়াল বোনাসের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে শর্ত হলো, দেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতে হবে মাঠে। ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দেড় কোটি টাকা বোনাসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা আজও পাননি মেয়েরা।
১২ দলের এই টুর্নামেন্টে তিন গ্রুপ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের সঙ্গে সেরা দুই তৃতীয় দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। গ্রুপে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্ত প্রতিপক্ষ থাকলেও স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সিডনির বাতাসে যখন মিশে যাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, তখন সেটি শুধু একটি ম্যাচের শুরু নয়, দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতিও হবে। আফঈদা-ঋতুপর্ণারা হয়তো জানেন, প্রতিটি পাস, প্রতিটি ট্যাকল, প্রতিটি গোলচেষ্টা লিখে দেবে নতুন ইতিহাস। এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশ, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আর যদি চীনের বিপক্ষে চমক দেখাতে পারে লাল-সবুজ, সেটি হবে আরও বড় পাওয়া।
![]()